Bangla Kobita || Premer kobita || বাছাই করা প্রেমের কবিতা - গল্প-কবিতার কুটির

Home Top Ad

Post Top Ad

Bangla Kobita || Premer kobita || বাছাই করা প্রেমের কবিতা


Bangla Kobita || Premer kobita || বাছাই করা প্রেমের কবিতা 

    Bangla Kobita:- Bengali poem is a rhythmic words arrangement which summarizes a poet's emotional and romantic feelings, perceptions and thoughts with the help of an imaginary-painting, and put a melodious and dramatic stage to the rhythmic use of words. Poetry is classified by different structure. Over the years, poets have changed their structure and characteristics of poetry. Poetry is one of the great branches of art. Premer Kobita is one of the parts of this category 

    কবিতা (Bangla Kobita )বা শ্লোক একটি ছন্দময় শব্দের বিন্যাস যা একটি কবির সংবেদনশীল চিত্রকর্মের সাহায্যে কবির সংবেদনশীল অনুভূতি, উপলব্ধি এবং চিন্তার সংক্ষিপ্তসার করে এবং শব্দের ছন্দময় ব্যবহারকে একটি সুরময় এবং নাটকীয় মঞ্চস্থ করে তোলে। কবিতা বিভিন্ন কাঠামো দ্বারা শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। বছরের পর বছর ধরে, কবিরা তাদের কাব্য গঠন এবং বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করেছেন। কবি শিল্প একটি দুর্দান্ত শাখা।


হৃদয় নিঃসঙ্গ চিল


                                   হৃদয় নিঃসঙ্গ চিল
                              - শামসুর রহমান              


হৃদয় নিঃসঙ্গ চিল হয়ে কেঁদেছে ক’দিন তার
খবর রাখেনি কেউ। শূন্যতায় বেড়িয়েছি ভেসে,
যেন আমি কাটা ঘুড়ি, অনেক কষ্টেও মৃদু হেসে
সহজে নিয়েছি মেনে সামাজিকতার অত্যাচার।
আমাকে নিষণ্ন পেয়ে গৌরী প্রশ্ন করে, ‘কবি তুমি
এমন নিষ্পৃহ কেন আজকাল, এমন শীতল
উচ্চারণে, আচরণে? আমি কি ঢেলেছি ঠাণ্ডা জল
তোমার উদ্দীপনায়? ভাবাচ্ছে সন্ত্রন্ত জন্মভূমি?


কী দেবো উত্তর আমি? নিজেই জানি না, শুধু জানি
অন্ধকার গোলকধাঁধায় ঘুরি দিনরাত কেঁপে
উঠি ঘন ঘন একা ঘরে, ছায়াচ্ছন্ন এক প্রাণী
শিঙ নাড়ে, কষ বেয়ে তার রক্ত ঝরে, আসে ব্যেপে
কুঞ্জটিকা হৃদয়ে আমার, তবু তোমাকেই খুঁজি
প্রতিক্ষণ, এদিকে ফুরায় দ্রুত পরমায়ু-পুঁজি।

=========================


         শামসুর রহমান (জন্ম ২৩ অক্টোবর ১৯২৯ – মৃত্যু ১৭ অগস্ট ২০০৬) বাংলা ও বিশ্ব সাহিত্যের  একঅন্যতম প্রধান কবি। ঢাকা শহরের মাহুতটুলিতে জন্মগ্রহন করেন শামসুর রহমান । বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে এপার বাংলা ও অপার বাংলা তে  তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও জনপ্রিয়তা সমান ভাবে জনপ্রিয় ও  প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তাঁর কিছু কবিতা খুবই জনপ্রিয় । আধুনিক কবি হিসেবে আজও পাঠক কুলের মন জয় করে আছেন তিনি । ইনি আমাদের অনেক ছোট Premer Kobita উপহার দিয়েছেন ।

           Shamsur Rahman (born 23 October 1929 - died 17 August 2006) is one of the leading poets of Bengali poem and world literature. Shamsur Rahman was born in Mahuttuli, Dhaka. In the second half of the twentieth century, his superiority and popularity in Aper Bangla and Upper Bengal were equally popular and established. Some of his poems written on Bangladesh's independence struggle are very popular. He is still winning the mind of the reader as a modern poet. He gives us various type of Bangla Kobita. & Kremer Kobita.
  • Further Readingঅনন্ত প্রেম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা কবিতা Rabindranath Tagore Poems
১৩৩৩


                           ১৩৩৩
                            - জীবনানন্দ দাশ


তোমার শরীর —
তাই নিয়ে এসেছিলে একবার — তারপর — মানুষের ভিড়
রাত্রি আর দিন
তোমারে নিয়েছে ডেকে কোন্‌ দিকে জানি নি তা — মানুষের ভিড়
রাত্রি আর দিন
তোমারে নিয়েছে ডেকে কোনদিকে জানি নি তা — হয়েছে মলিন
চক্ষু এই — ছিঁড়ে গেছি — ফেঁড়ে গেছি — পৃথিবীর পথে হেঁটে হেঁটে
কত দিন — রাত্রি গেছে কেটে!
কত দেহ এল, গেল, হাত ছুঁয়ে ছুঁয়ে
দিয়েছি ফিরায়ে সব — সমুদ্রের জলে দেহ ধুয়ে
নক্ষত্রের তলে
বসে আছি — সমুদ্রের জলে
দেহ ধুয়ে নিয়া
তুমি কি আসিবে কাছে প্রিয়া!
তোমার শরীর —
তাই নিয়ে এসেছিলে একবার — তারপর — মানুষের ভিড়
রাত্রি আর দিন
তোমারে নিয়েছে ডেকে কোন্‌দিকে — ফলে গেছে কতবার,
ঝরে গেছে তৃণ!


আমারে চাও না তুমি আজ আর, জানি;
তোমার শরীর ছানি
মিটায় পিপাসা
কে সে আজ! — তোমার রক্তের ভালোবাসা
দিয়েছ কাহারে!
কে বা সেই! — আমি এই সমুদ্রের পারে
বসে আছি একা আজ — ঐ দূর নক্ষত্রের কাছে
আজ আর প্রশ্ন নাই — মাঝরাতে ঘুম লেগে আছে
চক্ষে তার — এলোমেলো রয়েছে আকাশ!
উচ্ছৃঙ্খল বিশৃঙ্খলা! — তারই তলে পৃথিবীর ঘাস
ফলে ওঠে — পৃথিবীর তৃণ
ঝড়ে পড়ে — পৃথিবীর রাত্রি আর দিন
কেটে যায়!
উচ্ছৃঙ্খল বিশৃঙ্খলা — তারই তলে হায়!


জানি আমি — আমি যাব চলে
তোমার অনেক আগে;
তারপর, সমুদ্র গাহিবে গান বহুদিন —
আকাশে আকাশে যাবে জ্বলে
নক্ষত্র অনেক রাত আরো,
নক্ষত্র অনেক রাত আরো,
(যদিও তোমারও
রাত্রি আর দিন শেষ হবে
একদিন কবে!)
আমি চলে যাব, তবু, সমুদ্রের ভাষা
রয়ে যাবে — তোমার পিপাসা
ফুরাবে না পৃথিবীর ধুলো মাটি তৃণ
রহিবে তোমার তরে — রাত্রি আর দিন
রয়ে যাবে রয়ে যাবে তোমার শরীর,
আর এই পৃথিবীর মানুষের ভিড়।


আমারে খুজিয়াছিলে তুমি একদিন —
কখন হারায়ে যাই — এই ভয়ে নয়ন মলিন
করেছিলে তুমি! —
জানি আমি; তবু, এই পৃথিবীর ফসলের ভূমি
আকাশের তারার মতন
ফলিয়া ওঠে না রোজ — দেহ ঝরে — ঝরে যায় মন
তার আগে!
এই বর্তমান — তার দু — পায়ের দাগে
মুছে যায় পৃথিবীর পর,
একদিন হয়েছে যা তার রেখা, ধূলার অক্ষর!
আমারে হারায়ে আজ চোখ ম্লান করিবে না তুমি —
জানি আমি; পৃথিবীর ফসলের ভূমি
আকাশের তারার মতন
ফলিয়া ওঠে না রোজ —
দেহ ঝরে, তার আগে আমাদের ঝরে যায় মন!


আমার পায়ের তলে ঝরে যায় তৃণ —
তার আগে এই রাত্রি — দিন
পড়িতেছে ঝরে!
এই রাত্রি, এই দিন রেখেছিলে ভরে
তোমার পায়ের শব্দে, শুনেছি তা আমি!
কখন গিয়েছে তবু থামি
সেই শব্দে! — গেছ তুমি চলে
সেই দিন সেই রাত্রি ফুরায়েছে বলে!
আমার পায়ের তলে ঝরে নাই তৃণ —
তবু সেই রাত্রি আর দিন
পড়ে গেল ঝ’রে।
সেই রাত্রি — সেই দিন — তোমার পায়ের শব্দে রেখেছিলে ভরে!


জানি আমি, খুঁজিবে না আজিকে আমারে
তুমি আর; নক্ষত্রের পারে
যদি আমি চলে যাই,
পৃথিবীর ধুলো মাটি কাঁকরে হারাই
যদি আমি —
আমারে খুঁজিতে তবু আসিবে না আজ;
তোমার পায়ের শব্দ গেল কবে থামি
আমার এ নক্ষত্রের তলে! —
জানি তবু, নদীর জলের মতো পা তোমার চলে —
তোমার শরীর আজ ঝরে
রাত্রির ঢেউয়ের মতো কোনো এক ঢেউয়ের উপরে!
যদি আজ পৃথিবীর ধুলো মাটি কাঁকরে হারাই
যদি আমি চলে যাই
নক্ষত্রের পারে —
জানি আমি, তুমি আর আসিবে না খুঁজিতে আমারে!


তুমি যদি রহিতে দাঁড়ায়ে!
নক্ষত্র সরিয়া যায়, তবু যদি তোমার দু — পায়ে
হারায়ে ফেলিতে পথ — চলার পিপাসা! —
একবারে ভালোবেসে — যদি ভালোবাসিতে চাহিতে তুমি সেই ভালোবাসা।
আমার এখানে এসে যেতে যদি থামি! —
কিন্তু তুমি চলে গেছ, তবু কেন আমি
রয়েছি দাঁড়ায়ে!
নক্ষত্র সরিয়া যায় — তবু কেন আমার এ পায়ে
হারায়ে ফেলেছি পথ চলার পিপাসা!
একবার ভালোবেসে কেন আমি ভালোবাসি সেই ভালোবাসা!


চলিতে চাহিয়াছিলে তুমি একদিন
আমার এ পথে — কারণ, তখন তুমি ছিলে বন্ধুহীন।
জানি আমি, আমার নিকটে তুমি এসেছিলে তাই।
তারপর, কখন খুঁজিয়া পেলে কারে তুমি! — তাই আস নাই
আমার এখানে তুমি আর!
একদিন কত কথা বলেছিলে, তবু বলিবার
সেইদিনও ছিল না তো কিছু — তবু বলিবার
আমার এ পথে তুমি এসেছিলে — বলেছিলে কত কথা —
কারণ, তখন তুমি ছিলে বন্ধুহীন;
আমার নিকটে তুমি এসেছিলে তাই;
তারপর, কখন খুঁজিয়া পেলে কারে তুমি — তাই আস নাই!


তোমার দু চোখ দিয়ে একদিন কতবার চেয়েছ আমারে।
আলো অন্ধকারে
তোমার পায়ের শব্দ কতবার শুনিয়াছি আমি!
নিকটে নিকটে আমি ছিলাম তোমার তবু সেইদিন —
আজ রাত্রে আসিয়াছি নামি
এই দূর সমুদ্রের জলে!
যে নক্ষত্র দেখ নাই কোনোদিন, দাঁড়ায়েছি আজ তার তলে!
সারাদিন হাঁটিয়াছি আমি পায়ে পায়ে
বালকের মতো এক — তারপর, গিয়েছি হারায়ে
সমুদ্রের জলে,
নক্ষত্রের তলে!
রাত্রে, অন্ধকারে!
তোমার পায়ের শব্দ শুনিব না তবু আজ — জানি আমি,
আজ তবু আসিবে না খুঁজিতে আমারে!


তোমার শরীর —
তাই নিয়ে এসেছিলে একবার — তারপর, মানুষের ভিড়
রাত্রি আর দিন।
তোমারে নিয়েছে ডেকে কোন্‌দিকে জানি নি তা — হয়েছে মলিন
চক্ষু এই — ছিঁড়ে গেছি — ফেঁড়ে গেছি — পৃথিবীর পথে হেঁটে হেঁটে
কত দিন — রাত্রি গেছে কেটে
কত দেহ এল, গেল — হাত ছুঁয়ে ছুঁয়ে
দিয়েছি ফিরায়ে সব — সমুদ্রের জলে দেহ ধুয়ে
নক্ষত্রের তলে
বসে আছি — সমুদ্রের জলে
দেহ ধুয়ে নিয়া
তুমি কি আসিবে কাছে প্রিয়া!




          জীবনানন্দ দাশ,  (১৮৯৯-১৯৫৪). তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের অন্তর্গত বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।জীবনানন্দ দাশের  আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন একজন পরিচি ত স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।  ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন জীবনানন্দ দাশ। কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন জীবনানন্দ দাশের মা যিনিও ছিলেন সেযুগের একজন কবি। ইনি আমাদের অনেক ছোট Premer Kobita উপহার দিয়েছেন ।
 ইচ্ছে ছিলো


                    ইচ্ছে ছিলো
                        - হেলাল হাফিজ                    


ইচ্ছে ছিলো তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো
ইচ্ছে ছিলো তোমাকেই সুখের পতাকা করে
শান্তির কপোত করে হৃদয়ে উড়াবো ।


ইচ্ছে ছিলো সুনিপুণ মেকআপ-ম্যানের মতো
সূর্যালোকে কেবল সাজাবো, তিমিরের সারাবেলা
পৌরুষের প্রেম দিয়ে তোমাকে বাজাবো, আহা তুমুল বাজাবো ।


ইচ্ছে ছিলো নদীর বক্ষ থেকে জলে জলে শব্দ তুলে
রাখবো তোমার দুই লাজুক চঞ্চুতে,
জন্মাবধি আমার শীতল চোখ
তাপ নেবে তোমার দু'চোখে ।


ইচ্ছে ছিলো রাজা হবো
তোমাকে সম্রাজ্ঞী করে সাম্রাজ্য বাড়াবো,
আজ দেখি রাজ্য আছে
             রাজা আছে
             ইচ্ছে আছে,
শুধু তুমি অন্য ঘরে ।




         বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি হেলাল হাফিজ (জন্মঃ ৭ অক্টোবর, ১৯৪৮) যিনি  বিংশ শতাব্দীর শেষাংশে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তাঁর বিখ্যাত  কবিতা সংকলন যে জলে আগুন জ্বলে ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হ্য ।  ওই গ্রন্থটির ১২টি সংস্করণ প্রকাশিত হলেও এরপর গ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তার নিস্পৃহতা লক্ষ্য করা যায় । ২৬ বছর পর ২০১২ সালে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা একাত্তর’ প্রকাশিত হয় । ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।

অগ্ন্যুৎসব


                    অগ্ন্যুৎসব
                       - হেলাল হাফিজ                     


ছিল তা এক অগ্ন্যুৎসব, সেদিন আমি
সবটুকু বুক রেখেছিলাম স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রে
জীবন বাজি ধরেছিলাম প্রেমের নামে
রক্ত ঋণে স্বদেশ হলো,
তোমার দিকে চোখ ছিলো না
জন্মভূমি সেদিন তোমার সতীন ছিলো ।


আজকে আবার জীবন আমার ভিন্ন স্বপ্নে অংকুরিত অগ্ন্যুৎসবে
তোমাকে চায় শুধুই তোমায় ।


রঙিন শাড়ির হলুদ পাড়ে ঋতুর প্লাবন নষ্ট করে
ভর দুপুরে শুধুই কেন হাত বেঁধেছো বুক ঢেকেছো
যুঁই চামেলী বেলীর মালায়,
আমার বুকে সেদিন যেমন আগুন ছিলো
ভিন্নভাবে জ্বলছে আজও,
তবু সবই ব্যর্থ হবে
তুমি কেবল যুঁই চামেলী বেলী ফুলেই মগ্ন হলে ।


তার চেয়ে আজ এসো দু'জন জাহিদুরের গানের মতন
হৃদয় দিয়ে বোশেখ ডাকি, দু'জীবনেই বোশেখ আনি ।
জানো হেলেন, আগুন দিয়ে হোলি খেলায় দারুণ আরাম
খেলবো দু'জন এই শপথে
এসো স্ব-কাল শুদ্ধ করি দুর্বিনীত যৌবনেরে ।



         Helal Hafeez, a modern Bangladeshi poet (born October 7,1948) who rose to prominence in the late 20th century. His compilation of famous poems that burned in the water was published in 1986. Although 42 editions of the book have been published, however, its contribution to the publication of the book is noticeable. Twenty-two years later, in 2012, his second poem 'Poetry Eighteen' was published. He was awarded the Bangla Academy Award in the year 2013. He gives us various type of Bangla Kobita.

 আরশি


                    আরশি
                       - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর                   


তোমার যে ছায়া তুমি দিলে আরশিরে
           হাসিমুখ মেজে,
সেইক্ষণে অবিকল সেই ছায়াটিরে
           ফিরে দিল সে যে।
                    রাখিল না কিছু আর,
                    স্ফটিক সে নির্বিকার
                              আকাশের মতো--
                    সেথা আসে শশী রবি,
                    যায় চলে, তার ছবি
                              কোথা হয় গত।

একদিন শুধু মোরে ছায়া দিয়ে, শেষে
           সমাপিলে খেলা
আত্মভোলা বসন্তের উন্মত্ত নিমেষে
           শুক্ল সন্ধ্যাবেলা।
                    সে ছায়া খেলারই ছলে
                    নিয়েছিনু হিয়াতলে
                              হেলাভরে হেসে,
                    ভেবেছিনু চুপে চুপে
                    ফিরে দিব ছায়ারূপে
                              তোমারি উদ্দেশে।

সে ছায়া তো ফিরিল না, সে আমার প্রাণে
           হল প্রাণবান।
দেখি, ধরা পড়ে গেল কবে মোর গানে
           তোমার সে দান।
                    যদিবা দেখিতে তারে
                    পারিতে না চিনিবারে
                              অয়ি এলোকেশী--
                    আমার পরান পেয়ে
                    সে আজি তোমারো চেয়ে
                              বহুগুণে বেশি।

কেমনে জানিবে তুমি তারে সুর দিয়ে
           দিয়েছি মহিমা।
প্রেমের অমৃতস্নানে সে যে, অয়ি প্রিয়ে,
           হারায়েছে সীমা।
                    তোমার খেয়াল ত্যেজে
                    পূজার গৌরবে সে যে
                              পেয়েছে গৌরব।
                    মর্তের স্বপন ভুলে
                    অমরাবতীর ফুলে
                              লভিল সৌরভ।



        রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  (১৮৬১-১৯৪১)  কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।He gives us the various type of Bangla kobita.ইনি আমাদের অনেক ছোট Premer Kobita উপহার দিয়েছেন ।

পূজারিণী


                                            পূজারিণী
                            কাজী নজরুল ইসলাম           


এত দিনে অবেলায়
প্রিয়তম!
ধূলি অন্ধ ঘূর্ণি সম
দিবাযামী
যাবে আমি
নেচে ফিরে রুধিরাক্ত মরণ খেলায়
এত দিনে অবেলায়
জানিলাম, আমি তোমায় জন্মে জন্মে চিনি।
পূজারিণী!
ঐ কন্ঠ। ও কপোত কাঁদানো রাগিণী,
ঐ আঁখি ঐ মূখ
ঐ ভুরু ললাট চিবুক,
ঐ তব অপরুপ রুপ
ঐ তব দোলো-দোলো গতি নৃত্য দুষ্ট দুল রাজংসী জিনি-
চিনি সব চিনি।
তাই আমি এতদিন
জীবনের আশাহত ক্লান্ত শুঙ্ক বিদগ্ধ পুলিতে
মূর্ছাতুর সারা প্রাণ ভরে
ডাকি শুধু ডাকি তোমায়,
প্রিয়তমা!
ইষ্ট মম জপ মালা ঐ তব সবচেয়ে মিষ্ট নাম ধরে!
তারি সাথে কাঁদি আমি চিনি তোমা চিনি চিনি চিনি,
বিজয়িনী হন তুমি হন বিখারিনী,
তুমি দেবী চির শুদ্ধা তাপস কুমারঈ, তুমি মম চির পূজারিণী!
যুগে যুগে এ পাষাণে বসিয়েছে ভালো,
আপনারে দাহ করি মোর বুকে জ্বালায়েছ আলো,
বারে বারে করিয়াছ তব পূজা ঋণী।
চিনি প্রিয়া চিনি তোমা', জন্মে জন্মে চিনি চিনি চিনি!
চিনি তোমা' বারে বারে জীবনের অস্ত ঘাটে মরণ বেলায়
তারপর চেনা শেষে
তুমি হারা পরশেষে
ফেলে যাও একা শূন্য বিদায় ভেলায়!

=========================


            কাজী নজরুল ইসলাম (২৫ মে ১৮৯৯ – ২৯ আগস্ট ১৯৭৬) বাংলাদেশের জাতীয় কবি নামে পরিচিত  । তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক । বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রগতিশীল সৃষ্টির  জন্য সর্বাধিক পরিচিত। বাঙালি মনীষার এক তুঙ্গীয় নিদর্শন তিনি । পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ – দুই বাংলাতেই তার কবিতা ও গান সমানভাবে জনপ্রিয় ও  সমাদৃত। তার কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যা দেওয়া হয় । তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ।

আমি যদি হতাম


                                            আমি যদি হতাম
                                   - জীবনানন্দ দাশ          


আমি যদি হতাম বনহংস;
বনহংসী হতে যদি তুমি;
কোনো এক দিগন্তের জলসিঁড়ি নদীর ধারে
ধানক্ষেতের কাছে
ছিপছিপে শরের ভিতর
এক নিরালা নীড়ে;


তাহলে আজ এই ফাল্পুনের রাতে
ঝাউয়ের শাখার পেছনে চাঁদ উঠতে দেখে
আমরা নিম্নভূমির জলের গন্ধ ছেড়ে
আকাশের রুপালি শস্যের ভিতর গা ভাসিয়ে দিতাম-
তোমার পাখনায় আমার পালক, আমার পাখনায় তোমার রক্তের স্পন্দন-
নীল আকাশে খইক্ষেতের সোনালি ফুলের মতো অজস্র তারা,
শিরীষ বনের সবুজ রোমশ নীড়ে
সোনার ডিমের মতো
ফাল্গুনের চাঁদ।
হয়তো গুলির শব্দঃ
আমাদের তির্যক গতিস্রোত,
আমাদের পাখায় পিস্‌টনের উল্লাস,
আমাদের কন্ঠে উত্তর হাওয়ার গান!


হয়তো গুলির শব্দ আবারঃ
আমাদের স্তব্ধতা,
আমাদের শান্তি।
আজকের জীবনের এই টুকরো টুকরো মৃত্যু আর থাকত না:
থাকত না আজকের জীবনের টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা ও অন্ধকার;
আমি যদি বনহংস হতাম,
বনহংসী হতে যদি তুমি;
কোনো এক দিগন্তের জলসিড়ি নদীর ধারে
ধানক্ষেতের কাছে।

=========================


              Jibanananda, (1899 -1954). He was born in Barisal, Bangladesh on February 17.1899. His father, Satyanand Das, was a well-known schoolteacher and social worker. Jibanananda Das was the founding editor of Brahmavadi magazine. Kusumkumari Das was the mother of Jibananda Das, who was also a poet. He gives us various type of Bangla Kobita.
  • Further Reading: নীলিমা Jibananada Das Bengali Poem.

কৃষ্ণকলি


                                            কৃষ্ণকলি
                          - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর                  


কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি,
কালো তারে বলে গাঁয়ের লোক।
মেঘলাদিনে দেখেছিলেম মাঠে
কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ।
ঘোমটা মাথায় ছিলনা তার মোটে,
মুক্তবেণী পিঠের ‘পরে লোটে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক,
দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।

ঘন মেঘে আঁধার হল দেখে
ডাকতেছিল শ্যামল দুটি গাই,
শ্যামা মেয়ে ব্যস্ত ব্যাকুল পদে
কুটির হতে ত্রস্ত এল তাই।
আকাশ-পানে হানি যুগল ভুরু
শুনলে বারেক মেঘের গুরুগুরু।
কালো? তা সে যতই কালো হোক,
দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।

পূবে বাতাস এল হঠাত্‍‌ ধেয়ে,
ধানের ক্ষেতে খেলিয়ে গেল ঢেউ।
আলের ধারে দাঁড়িয়েছিলেম একা,
মাঠের মাঝে আর ছিল না কেউ।
আমার পানে দেখলে কিনা চেয়ে,
আমি জানি আর জানে সেই মেয়ে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক,
দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।

এমনি করে কাজল কালো মেঘ
জ্যৈষ্ঠমাসে আসে ঈশান কোণে।
এমনি করে কালো কোমল ছায়া
আষাঢ়মাসে নামে তমাল-বনে।
এমনি করে শ্রাবণ-রজনীতে
হঠাত্‍‌ খুশি ঘনিয়ে আসে চিতে।
কালো? তা সে যতই কালো হোক,
দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ।

কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি,
আর যা বলে বলুক অন্য লোক।
দেখেছিলেম ময়নাপাড়ার মাঠে
কালো মেয়ের কালো হরিণ-চোখ।
মাথার পরে দেয়নি তুলে বাস,
লজ্জা পাবার পায়নি অবকাশ।
কালো? তা সে যতই কালো হোক,
দেখেছি তার কালো হরিণ-চোখ.



কেউ কথা রাখেনি



                                            কেউ কথা রাখেনি
                                 - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়       


কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল
                      শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে
তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী
                                                    আর এলোনা
                      পঁচিশ বছর প্রতিক্ষায় আছি।

মামা বাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিল, বড় হও দাদাঠাকুর
                      তোমাকে আমি তিন প্রহরের বিল দেখাতে নিয়ে যাবো
                      সেখানে পদ্মফুলের মাথায় সাপ আর ভ্রমর
                                                                  খেলা করে!
নাদের আলী, আমি আর কত বড় হবো?  আমার মাথা এ ঘরের ছাদ
               ফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করলে তারপর তুমি আমায়
                                 তিন প্রহরের বিল দেখাবে?

একটাও রয়্যাল গুলি কিনতে পারিনি কখনো
লাঠি-লজেন্স দেখিয়ে দেখিয়ে চুষেছে লস্করবাড়ির ছেলেরা
ভিখারীর মতন চৌধুরীদের গেটে দাঁড়িয়ে দেখেছি
                                     ভিতরে রাস-উৎসব
অবিরল রঙের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কণ পরা ফর্সা রমণীরা
                      কত রকম আমোদে হেসেছে
                      আমার দিকে তারা ফিরেও চায়নি!
বাবা আমার কাঁধ ছুঁয়ে বলেছিলেন, দেখিস, একদিন, আমরাও
বাবা এখন অন্ধ, আমাদের দেখা হয়নি কিছুই
সেই রয়্যাল গুলি, সেই লাঠি-লজেন্স, সেই রাস-উৎসব
                               আমায় কেউ ফিরিয়ে দেবেনা!

বুকের মধ্যে সুগন্ধি রুমাল রেখে বরুণা বলেছিল,
যেদিন আমায় সত্যিকারের ভালবাসবে
                      সেদিন আমার বুকেও এ-রকম আতরের গন্ধ হবে!
ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠেয়ে প্রাণ নিয়েছি
দূরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়
বিশ্বসংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টা নীল পদ্ম
তবু কথা রাখেনি বরুণা, এখন তার বুকে শুধুই মাংসের গন্ধ
                                 এখনো সে যে-কোনো নারী।
কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখে না!    

==============================


    কবিতাটি শুনুন এখান থেকে



         সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বাঙালি বাঙালি সাহিত্যের অন্বেষণকারী। ২০১২ সালে তাঁর মৃত্যুর চার দশক আগে তিনি সর্বজনীন বাংলাভাষী জনগণের কাছে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হিসাবে পরিচিত ছিলেন। বাংলাভাষী ভারতীয় কবি, উপন্যাস, ছোটগল্প, সম্পাদক, সাংবাদিক এবং কলামিস্ট হিসাবে অনেক স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছিলেন। আধুনিক বাংলা কবিতার পরবর্তীকালের অন্যতম প্রধান কবি তিনি। একই সঙ্গে, তিনি আধুনিক এবং রোম্যান্টিক। তাঁর কবিতার অনেক লাইন সাধারণ মানুষ মনে রাখে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন "নীলোহিত", "সনাতন পাঠক" এবং "নীল উদ্যাধ্য্যা" ইত্যাদি। ইনি আমাদের অনেক ছোট Premer Kobita উপহার দিয়েছেন ।

          Sunil Gangopadhyay is an early Bengali literary explorer of the late twentieth century. he was widely known to the Universalist Bangla-speaking population as one of the leading figures in Bengali literature. The Bengali-speaking Indian gifted many memorable works as poets, novels, short stories, editors, journalists, and columnists. He is one of the leading poets of modern Bengali poetry. Many lines of his poetry are remembered by ordinary people. Sunil Gangopadhyay used the pseudonyms "Nillohit", "Sanatan Pathak" and "Nil Udyadhyaya" etc. He gives us various type of Bangla Kobita.
  • To read more Bangla kobita on Rabindranath Tagore Poem Visit Bangla Kobita.
  • For more update related to Bangla kobita plz visit Golpo kobitar Kutir 
  • বাংলা পড়তে অসুবিধা হলে ফন্ট টি ডাউনলোড করুন এখান থেকে ।




No comments:

Post a Comment

Post Top Ad