{Bhuter Golpo } সেরা হাড় হীম করা Bhuter Golpo - গল্প-কবিতার কুটির

Home Top Ad

Post Top Ad

{Bhuter Golpo } সেরা হাড় হীম করা Bhuter Golpo

Bhuter Golpo :- সেরা হাড় হীম করা Bhuter Golpo


Bhuter Golpo

Bhuter Golpo : Bangla Golpo গুলির মধ্যে ভুতের গল্প গুলি একটা অন্য জায়গা দখল করে আছে Bhuter Golpo মানেই একটা অন্য রকম ভয়ার্ত আনুভুতি গা ছম ছমে ভাব  আর নিশ কালো অন্ধকার।গল্প-কবিতার কুটির এর বিশেষ নিবেদন Bhuter Golpo .আজকের গল্প 

রামাই ভুত 
তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়


লাভপূর । বীরভূম জেলার লাভপুর! আমার বাড়ি সেখানে ।
 লাভপ্‌রে চারখানা দর্গাপুজো হয়, বারোখানা কালীপৃঙ্গো হয়।
শিব আছেন কয়েক গণ্ডা। এছাড়া বুড়ো শিব আছেন। এদের
সঙ্গে অনেক ভূতের আসা-যাওয়া । তবে তারা আসে আবার চলে যায়
দেবদেবীর সঙ্গে । এ ছাড়াও অন্য ভূত, যারা এখানে বিশেষ পারচিত,
তারাও কম নয়, সংখ্যায় তারাও অনেক । এদের মধ্যে লালুকচাঁদা
পুকুরের পাড়ে বট গাছটায় যে পেতানিটা থাকত তার নাম তো সেই
ছেলে বয়স থেকে শুনে আসছি । সে বটের ডালে দাঁড়িয়ে ডালটা দুলিয়ে
দোল খেত। চট্টরাজদের বাড়ীতে একটা ভূত ছিল সেটার কাজ ছিল
সমশ্ড রান্রি বাড়ির ঘুমন্ত লোকগুঁলর পায়ে বগলে সুড়সুড়ি কাতুকুতু
দিয়ে জাগিয়ে দেওয়া । প্রথম প্রথম মানুষেরা চমকে উঠে কে কে বলে
জেগে উঠলেই সে খিলখিল শব্দে খোনা হাসি হেসে আরও কাতুকুতু দিত।
শেষ পর্যস্ত লোকে ভয় না করে গায়ে পায়ে হাত ঠৈকলেই হাত-
পা ছুড়ে ভূতটাকে লাথ মেরে সরিয়ে দিত। তখন সে আবার অন্য
পথ ধরে জ্বালাতন করত, বাবলার কাঁটা ভেঙে এনে ফুটিয়ে দিয়ে
জবালাতন করত । বৈরিগণতলায় বশ্টুম ভূত ছিল। এখানে বৈরিগীদের
একটা খুব ভালো আখড়া ছিল। সেখানে উৎকৃষ্ট বেলগাছ ছিল।
লোকে বলত বাদশাহি বেল। এই বেলের লোভে অনেক বন্টুম ভূত
আসত । সকলকে তাঁড়য়ে এখানে পাকা-পোন্ত মোহস্ত ভূত হয়োছিল সে
এক বোষ্টম পণ্ডিত ভূত। তিলক ফোঁটাকাটা মোটা চৈতনওয়ালা

Bhuter Golpo রামাই ভুত                                                                                         Page 1

মহাপশ্ডিত।  শুনেছি তার মতো বৈধবশাস্মে সাহত্যে পশ্ডিত দেশে
দু-চারটের বেশি ছিল না। ক র গর চ শব্দগুলো শুনলেই ফুপিয়ে
ফুঁপিয়ে কাঁদতেন। কয়ে কৃষ্ণ রয়ে রাধা গ-য়ে গৌরাঙ্গ গোবিন্দ চ-য়ে
চৈতন্য। মৃত্যুর পর রথ এসোছল তাঁকে নিতে, কিন্তু তানি যানান।
বলেছিলেন, _ওহে সারাথ, তুম বাবু রথ নিয়ে ফিরে যাও । আমার
কিছু কাজ বাক আছে, মানে গোটাকতক মামলা চলছে আদালতে । সে
কটা শেষ না-হওয়া পর্যস্ত যেতে আমি পারব না। রথ ফিরে গিয়েছিল।
বৈফবপাঁত জ্রীবনকালে শুধু বৈষ্ণবশাস্ত নিয়েই কারবার করেননি তাঁর
আইনজ্ঞান মামলাজ্ঞান ছিল টনটনে। এ চাকলায় ফৌজদার দেওয়ানি
যে মামলাই হোক পশ্ডিত মোহম্ত তার একপক্ষের তাঁদ্ধরে থাকতেনই।
বৈষণব-শাস্ম নিয়ে কথা না বললে তাঁর বুক ধড়ফড় করত, মাথা ধরত।
আর মামলা নিয়ে কোনাঁদন যাঁদ আলাপ আলোচনা না হত তা হলে
তার পেট কামড়াত এবং যা খেতেন তার একটি দানাও হজম হত না।
সুতরাং মৃত্যুর সময় তাঁর হাতে চার-চারটে মামলা, এ খুব বেশি ব্যাপার
নয়। বৈষ্ণবপাণ্ডত ভূত হয়ে দীর্ঘকাল থেকেছিলেন; থাকতেন ওই ষে
বেল বন, ওই বেল বনের মধ্যে একটা বকুল গাছে । বেল গাছে কাঁটা
ফুটত বলে বেল গাছে থাকতেন না। প্রায় রোজই যাতায়াত করতেন
গসিউড়ি রামপুরহাট । আদালতের সামনে একটা খোলা জায়গা সর্বত্র
আছে এবং সেখানে বট গাছ আছে। সেই বট গাছে পা ঝুলিয়ে বসে
থাকতেন । কেউ যাঁদ আইনের পরামর্শ চাইত তা হলে তিনি কূট পরামর্শ
দিতেন; ফি সামান্যই, সামান্য ঝতাসা-টাতাসা দিলেই হত। প্রতি
বৎসর তাঁর মত্যাদনে রথ আসত কিন্তু তিনি 'ফিরিয়ে দিয়ে বলতেন--
আসছে বছর এসো । তাঁকে তাঁড়িয়েছিল গঙ্গা তীরের ভূতের দল
এসে।
    একবার শুনো গঙ্গাতর থেকে এক ঝাড় বা চুপাঁড় বোঝাই হয়ে
ভূত এসোছল আমাছের গ্রামে । ব্যাপারটা হল এই, আমাদের এখানে
“বৈরাগী আখড়া, বলে এক প্রাতগ্ঠান ছিল। সেখানে গৌরাঙ্গ
'নিত্যানন্দের সেবা ছিল। আর ছিল গোঁবন্দ সেবা । এদের চারপাশে
ছিল ঝাঁড়খানেক শালগ্রামশিলা । মানেটা সেকালে সহজ ছিল, একালে
ঠিক সহজ নয়। সেকালে ব্রাহ্মণদের বহুজনের বাড়তে শালগ্রাম
নারায়ণ সে্বা ছিল। কিন্তু ক্রমে ক্রমে কালে লোকেরা দেখলে এই গোল

Bhuter Golpo রামাই ভুত                                                                                         Page 2

নূড়িগুলো “কুছ কাম্‌কা নোহ'; কেবল পৃজো ভোগের ঝঞ্ঝাট বাড়ায় ;
শালগ্রাম নিয়ে আর ব্যবসা চলে না; লোকে সত্যনারায়ণ করায় না,
যাগযজ্ঞি করায় না, তখন তারা লুকিয়ে শালগ্রামাশলা গুলি এনে এই
আখড়ায় নামিয়ে দিয়ে চলে যেত। আখড়া থেকে নিয়ম ছিল যে
শালগ্রামীশলা পেলে ওই শালগ্রামীশলার সারতে বাঁসয়ে রাখবে,
'দিনাস্তে ছিটিয়ে দেবে কুশের ডগায় গঙ্গাজল, তুলসীর পাতা আর
আতপের কণা । আখড়ায় এ জন্য জাম ছিল। এই বৈষঃব পণ্ডিতের
পরামর্শে সেবাইত একদিন শিলাগুল ঝাড় বোঝাই করে নিয়ে গঙ্গার
জলে ফেলে দিলে । বাস নিশ্চিন্ত । কিন্তু অদৃষ্টের বিপাক, সেইখানে
ছিল একটা বিশাল অশবথ বৃক্ষ। সেই বৃক্ষের ডালে ঝুলত অনেক
বাদুড় । চ্যাচ্যা করে চ্যাচাত আর উড়ত। এদের মধ্যে ছিল অনেক
চামাচকে । এরা কিন্তু আসলে বাদুড় চামচিকে নয়, এরা আসলে হল
গঙ্গাতীরে মরতে এসে যারা গঙ্গা পায়নি তাদেরই অশান্ত অতৃপ্ত আত্মা,
ভূত হয়ে ঝুলছে ডালে ডালে । শালগ্রামীশলা ফেলে দিকে ঝুঁড়টা যেই
না খালি হল অমনি ঝুপঝুপ করে একঝুড়ি বোঝাই হবার মতো চামচিকে
খসে পড়ল। মানে একঝুঁড়ি ভূত।
       সেই একঝুঁড়ি বোঝাই ভূত ওই বৈরাগীর মাথায় চেপে এল
আমাদের লাভপুরে । এবং বৈরাগী আখড়ায় পৌছুবামার ফরফর
শব্দে উড়ে গিয়ে আশ্রয় নিলে বকুল গাছে। বকুল গাছের ডালে বেশ
শষ্যা রচনা করে ওই পাঁণ্ডতাঁজ তখন ওই নাকহীন মুখের নাসকাগহবরে
বাতাস টেনে নাক ডাকচ্ছিলেন। এবং স্বপু দেখাছলেন যে শালগ্রামশলা
গুলো গেল, ঝঞ্জাট কমল, ওই অনমি শালগ্রাম সেবার জন্যে যে জমিটা
ছিল সেটার আয় থেকে এবার যুৎসই করে মালপো খাওয়া যাবে।
    গোবিন্দ হে! কোথায় মালপো? কোথায় সুখ! দু-চারশো
চামচিকে পশ্ডিতকে চিণচ শব্দ করে নখ দাঁত 'দিয়ে আক্রমণ করলে।
     পণ্ডিত সেই যে সোঁদন পালাল আর ফেরনি। এ চামচিকে
আকারের ভূতগুলো একবার ঝড়ে ওই বকুল গাছের ডাল ভেঙে পড়ায়
চাপা পড়ে চেপটে লেপটে ফুস ধা হয়ে গেছে।
     এ ছাড়াও অনেক অনেক ভূত আছে ।
     সে সব এখন থাক। এখন আমি ঘম দত্তের ছকে দেওয়া লাইনে
'গবেষণা করব। সকলেই জানেন রিসার্চ ওয়ার্কের নিয়মই তাই,

Bhuter Golpo রামাই ভুত                                                                                         Page 3

একজনের অধীনে থেকে তাঁরই পরামর্শ এবং নির্দেশমতো রিসার্চ করতে
হয়। আমার গবেষণা হল ঘন দত্ত মহাশয়ের অধীনে । তাঁর নিদেশ হল
রামাই ভূতের সূত্র ধরে কাজ আরম্ভ করো ।
রামাই ভূতের পরিচয় ।
     সে আজকের কথা নয় -আমার ঠাকুরদাদারা তখন ছেলেপুলে
মানুষ । সে ধরন গিয়ে একশো চাল্লশ বহর আগের কথা । সে সময়
রামাই ভটচাঙ্জ ছিলেন একেবারে ভরাভতি' জোয়ান, ভটচাজ বাঁড়র এই
জোয়ান ছেলোঁটিকে ডেকে নিয়ে গিয়োছল "নাঁশ'তে! নিশিও একরকম
'ভূত। তারা রাত্রে মানুষের ঘুমন্ত অবস্থায় চেনা মানুষের গলায় ঘুমন্ত
মানুষের নাম ধরে ডাকে । ঘুমন্ত মানুষের ঘুম ভেঙে উঠে বেরিয়ে এসে
দেখতে পায় একটু দূরে তার একজন চেনা মানূষ দাঁড়য়ে আছে।
তারপর সে চলতে থাকে, এ লোকাঁটিও চলে । অনেক দূর এসে কোনও
খালে বা বিলে ডুবে কিংবা শক্ত মাটিতে কি পাথরে আছাড় খেয়ে এবং
পড়ে মরে ভূত হয়। রামাইয়ের নিশি ভয়ানক নিশি, সে থাকত গোয়াল
ঘরে। রামাই তার ডাকে বেরিয়ে এসে গোয়াল ঘরে ঢুকে গোরুর দাঁড়
গোয়ালের সাঙায় বেধে তাইতে গলায় ফাঁস পরে মরেছিল। অতঃপর
.বামাই আমাদের অলগ্ঘনিয় শাস্ত্রবিধি অনুসারে ভূত হল । এবং নিজের
বাঁড়তেই তার বাসা গাড়লে। উঠানে একাট নিম গাছ ছিল, সেই গাছ
হল তার বৈঠকখানা, বাঁড়র বড় ঘরের চালের সাঙায় হল তার শোয়ার
ঘর। ভূত হয়েও সে বাড়িরই একজন হয়ে রইল। রামাইকে নাকি দিনে
রাত্রে যখন তখন দেখা যেত। শুনৌছ আমার ঠাকুরদাদারাও তাঁকে
দেখেছেন । তাঁরা বলতেন, রামাইদাদা, আমাদের ভয় দেখিয়ো না।
রামাই বলত,-নাঁ-নাঁ। চ'লে ধা। নিভ'য়ে চলে যা। আমার দিকে
তাকাস না। আমি কাজ করছি। রাত্রে সে গোরদের থেতে 'দিত।
ঘরদোর ঝাঁট দিত। বাড়ির দোরে একটা কলকে ফুলের গাছ ছিল,
সেটায় চড়ে টাটকা কলকে ফুল তুলে চুষে মধু খেত। বড় যে নিম
'গাছটা ছিল উঠোনে, সেই গাছটার নিচের একটা ডালে দাঁড়িয়ে সেই
ডগার একটা ডাল ধরে হেইয়া মার হে"ইয়ো মারি বলে দোল খেত ।
    বড়দাদা নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্ষের স্ত্রীর কোলে তখন খোকা হয়েছে।
বাড়িতে মেয়েছেলে বলতে নবকৃষণের স্ত্রী মানদা এবং বিধবা বোন
.চণ্ডীদাসী । একজন রান্না করত অন্যজন ঘরে শালগ্রাম সেবার কাজ থেকে

Bhuter Golpo রামাই ভুত                                                                                         Page 4

 অন্য সব পাটকাম করত। ছেলেটি ঘরে কি দাওয়ায় বিছানায় শুয়ে
ঘুমত। হঠাৎ ঘুম তার ভাঙত, হয়তো গায়ে দুধের বা তেলের গন্ধ
পেয়ে পি'পড়ে এসে কামড়াত, হয়তো ছোট মাদুর বা বিছানায় উঠে
থাকা কোনও কাঠির খোঁচা লাগত, নয়তো দেয়ালা করার মধ্যে বে ভয়
পেয়ে ক্শীকয়ে কেদে উঠত। মায়ের আসতে দোর লাগত কারণ
ভটচাজ বাড়তে লোকের কাজ থেকে দেবতার কাজ বেশি।
তারপর গোরুবাছুর আছে । মায়ের ছুটে আসা সম্ভবপর হত না।
তখন রামাই নিম গাছের ডাল বা ঘরের সাঙা বা কলকে ফুলের গাছ বা
গোয়াল ঘর যেখানেই থাকত সেখান থেকে দুই হাত ল-ম্বা করে
বাঁড়য়ে দিয়ে (সাঁতারুরা যেমন ভাবে ডাইভ করে তেমাঁন ভাবে আর কি!)
সাঁ করে এসে হাজির হত ছেলোঁটরল কাছে এবং উপরের সাঙায় বসে লম্বা
হাত বাঁড়য়ে ছেলেটাকে তুলে নিত। বাচ্চা কচি ছেলে তার ভূতের ভয়
ছিলনা! ভূত আর মানুষে ঠিক তফাত করতে পারত না_-সে কোল
পেয়ে চুপ করত । রামাই তাকে দোলা 'দিতে দিতে আদর করে ফিসাঁফস
খোনা আওয়াজে বলত-আ হা রে জিভে আম জল স'রছে, কচ কচ
মাংস তাঁজাতাঁজা রন্ত, ইচ্ছে ক'রে ঘাড় মটকে চুষে খেয়েনি। কিন্তু
দাঁদার ছে'লে বংশধব পণ্ড দিবি আমাকে, তোঁর ঘাড় কী ক'রে
ভাঁঙ!
ছেলেটা এর মানে বুঝত না ফিকাঁফক করে হাসত।
বউদি এসে দেখত বিছনায় ছেলে নেই- ছেলে সাঙার কাছে শূন্যে
দোল খাচ্ছে । রামাইকে সে দেখতে পেত না। অনুমানে বুঝত রামাই
দোলাচ্ছে। তখন বলতো ঠাকুরপো খোকাকে নামিয়ে দাও ভাই । ওর
খিদে পেয়েছে দুধ খাওয়াবো ।
রামাই সূড়সুড় করে নাময়ে দিত ছেলেটিকে ।
রামাই একটি শর্ত কাঁরয়ে নিয়োছল বডীদকে। শর্ত করিয়ে
নিয়েযছিল এই - ছেলে যেন বড় হয়ে কখনও গয়া না যায়।
বউাঁদ জিজ্ঞেস করেছিল--কেন ঠাকুরপো ?
খোনা আওয়াজে রামাই বলোছল-ন্যাকা আমার! জানো না
বুজি?
কীজান নাঃ
জানো না গয়ায় পণ্ড দিলে ভূতজন্ম থেকে মুক্তি হয় ?

Bhuter Golpo রামাই ভুত                                                                                      Page 5

তাতো ভালো গো!
ভালো? তাহলে তো মানুষের মরণও ভালো! মুক্তি হয়! দোঁব
নাকি তোমার ঘাড়টা ভেঙে ?
ভয় পেয়ে বাদ বলত- দোহাই ভাই তোমার পায়ে পাড়ি।
পায়ে পাড়ি! কেন- মানুষ জন্মে কত হাঙ্গামা বলো তো? থাওয়া-
দাওয়া, বিষয়-সম্পান্তি করা, চাষবাস, পুজো-আচাঁ, ঝগড়াঝাঁট--
না ভাই। তবদ মনুষ্যজন্ম সুখের_
রামাই ধমক দিয়ে উঠত- চুপ বলছি! ভূত জন্ম আরও সুখের ।
স্বগৃঞেও এত সংখ নাই। হঃ-হু
বলেই নাকি রামপ্রসাদী সুরে গান ধরে দিত-_
             মন, তুমি আঁসল খ'বর জাঁনো না--
ভূ'তজন্ম, সঃখ-জন্ম, বিনি আবাদে ফলে সোনা !
           গাছের ডালে ঘরের কোণে
                 শ্মশানে মশানে বনে_
                বাসা বাঁধো রান্না রাঁধো
           শুধু লঙ্কাতে সম্বরা দিয়ো না,
              যেথায় খুশি সেথায় যেয়ো,
           শুধু অযোধ্যার ধারে যেয়ো না।
গানটাই শোনা যেত, রামাইকে দেখা যেত না, দেখা যেত ভটচাজ
বাঁড় থেকে খাড়া পশ্চিম দিকে প্রায় শ পাঁচেকগ হাত দুরে শা পুকুরের
পাড়ের উপর যে শ খানেক হাত উচু শিমূল গাছটা আছে সেই গাছটার
মগডালটা বিনা বাতাসে একেবারে ভেঙে পড়বার মতো ঝাপটা খেল
কিছুর। সেকালের লোকে এর মানে বুঝত। তারা বলত রাম রাম
রাম রাম । কেবল রামাইয়ের বডীঁদ জানত এ হল রামাই । মনের আনন্দে
এখান থেকে এক লাফে গিয়ে ঝাঁপ দিয়ে পড়েছে গাছটার উপর । গাছটা
হল গ্রামটার মধ্যে ভূতেদের একচা পাক বা বেড়াবার হাওয়া খাবার
জায়গা!
বডীঁদর সঙ্ষে বনত রামাইয়ের কিন্তু বোনের সঙ্গে বনত না। বোন
চণ্ডীদাসী বালাবধবা। ভূতকে সে অপাঁবন্র ভাবত ঘেশ্না করত, বলত
-মহাপাপী ছিলি ছোড়দা তুই। রানে বিছানায় শুয়ে চ্ডীদাসীর
কথা বলবার অবকাশ হত। চণ্ডী থাকত মেঝেতে শুয়ে রামাই থাকত

Bhuter Golpo রামাই ভুত                                                                                      Page 6

সাঙায়- অবশ্য তাকে দেখা বেত না।
রামাই ধমক 'দিত-চু-প!
কেন? চুপ করব কেন? পাপ না করলে ভূত হলি কেন তুই ?
সে গ'লায় দড়ি দেওয়ার জন্যে।
তাই বা দিলি কেন ?
নিশি ভূতে দেওয়ালে যে?
তুই ' দিলি কেন ?
ব'ললে যে খুব মজা হবে ।
মজা হবে! দেখাছিস মজা ?
দেখছি না? তুই দেখছিস না?
কী দেখব ? দেখবার কী আছে ?
ত'বে দেখ।
কী?
দেখ না ও'পরের দিকে চেয়ে!
চণ্ডীঁদাসী দেখত-সাঙার উপর থেকে থামের মতো একখানা পা
আস্তে আস্তে নেমে আসছে তার বুক বরাবর । কিন্তু চণ্ডীদাসী ভয়
পায় না,সে দাব্য সেই থামের মতো পা-খানাকে বলে রাম রাম_ নাম
দেখি! এই পা!
পা কিন্তু নামতে পারে না। থেমে যায়।
সাঙার উপর থেকে কথা ভেসে আসত- ওরে চণ্ডী ওরে মণ্ডী তোঁর
মতো ব্দমাস আমি দেখীনী । মনে ম'নে সেই দশরথ রাজার বেটার
নাম ক'রাছিস !
পা-খানাকে সে সজোরে দোলাতে থাকত। সে দোলায়মান পা-খানার
এক লাখি খেলে চণ্ডীদাসী যে চেপটে যাবে এতে কোনও সন্দেহ থাকবার
কথা নয়।
বউীদ বলত-_ও চণ্ডী ক্ষমা চা ভাই। ও চণ্ডী!
কাকে বলছে?  চণ্ডী সেই কথা শুনবার মেয়ে! সে কী করত,
এই মস্ত হাঁ করে দাঁত মেলে বিছানায় উঠে বসত এবং বলত কামড়াব তোর
পায়ে।
আ-!
পা-খানা সড়াৎ করে গুটিয়ে যেত ফুটো হয়ে যাওয়া লম্বা বেলুনের

Bhuter Golpo রামাই ভুত                                                                                      Page 7

মতো। চণ্ডীদাসী খিলাখল করে হাসত। তবে মধ্যে মধ্যে অতাঁকতে
ছরছর শব্দে বাল ছিটিয়ে দিয়ে কিম্বা কখনও পিঠের ওপর গুম করে
একটা 'কিল বাঁসয়ে দিয়ে অথবা চণ্ডীর মাথায় গোবরের তাল ফেলে 'দয়ে
তাকে জব্দ করত রামাই।
    রামাই ভয় করত আর খতির করত দাদাকে ৷ দাদা যজমান বাড়ি
থেকে ফিরত চাল কলা মিষ্টি মণ্ডা ফলমূল বেধে নিয়ে ; পিছন পিছন
রামাই পাহারা দিয়ে নিয়ে আসত বাড়ি । তবে দাদার সামনে কখনও
যেতনা। দাদা তাকে সংস্কৃত ব্যাকরণ পড়াবার সময় বাখারি দিয়ে
পিটত। এবং বরাবর 'পিছন থেকে হঠাৎ কান চেপে ধরত। এই ভয়ে
সামনে আসত না রামাই ৷
     দাদা একলা মানুষ, চাষের সময় বলত-_রামাই, মাঠের খোঁজ একটু
রাখিস । একলা মানুষ৷ এবার টানের বছর, দেখিস যেন চুর করে জল
কেটে নানেয়।
    রামাই সারারাত জমির চারধারে ঘুরে বেড়াত । একবার চাষী
সদগোপদের 'ভীমের মতো জোয়ান বহুবল্লভ, ভটচাজদের জমির জল চুরি
করে কেটে নিতে এসে দেখোছল- সেখানে একটা আ5মকা তাল গাছ
দাঁড়য়ে! আচমকা মানে অচেনা, অর্থাৎ তালগাছ সেখানে ছিল না;
আচমকা অচেনা তাল গাছটাকে দেখে বহুবল্লভ থমকে দাঁড়য়োছল।
এ তালগাছ এল কোথেকে ?
    তাল গাছটাই উত্তর 'দিয়োছল- আঁয় নে, জল কাট !
    বহুবল্লভ সাহসী এবং বলবান। সে বলছিল কেরে তুই?
      আমি রামাই !
এবার বহবল্লভ চোঁচা দৌড় 'দিয়েছিল। রামাই তার বাড়ি পর্যন্ত
ধর ধ'র বলে ছুটে এসোছল পিছন পিছন ।
      লোকে বলে রামাই নয়। এটা ছিল ওর ওই দাদা নবকৃষণের কাজ।
রামাই ভূত হয়েছে এই কথা রটনা ষখন হল তখন সে মধ্যে মধ্যে
তেলকালি মেখে ভূত সেজে এইভাবে মাঠে নিজের জল রক্ষাও করত
আবার পরের জল চুরি করেও নিত।

     তা বলুক লোকে । সেলোকেরা 'নিন্দুক লোক। নাস্তিক লোক।
ও কাজ রামাইয়ের! রামাই ছিল অসাধারণ ভূত। বাড়ির হিতৈষী
ভূত। তার প্রমাণ আছে। রামাই একবার বউদি আর বোন চণ্ডীদাসণীর

Bhuter Golpo রামাই ভুত                                                                                      Page 8

অনুরোধে রাসের সময় কান্দীর রাজবাড়) থেকে একঝুড়ি মালপো এক-
ঝুড়ি মেঠাই একঝুড়ি রাধাপ্রসম্ন কৃষপ্রসম্ন মিষ্টি এনে খাইয়েছিল।
ব্যাপারটা বলতে হয় নইলে পরিহ্কার হবে না। সে বছর রাসের সময়
দুই ননদ ভাজে গল্প করছিল কান্দীর রাজবাড়র রাসের খাওয়ার
সমারোহের।
    কান্দী রাজবাড়তে রাধাবল্লভ ঠাকুরের নিতাভাগেই এক অন্ন পঞ্চাশ
বাঞজন একান্ন পদের ব্যবস্থা; সেই অবস্থার উপর বিশেষ ব্যবস্থা রাসযাত্রা
পরবে । দীয়তাম ভূজাতাম, ব্যাপার । খেতে বসে পদের পর পদ খেতে
খেতে লোকের পেট ভরে উঠে এমন চড়চড় কে ষে হেউনেউ শব্দে
চারদিক ভরে যায়। দু-দশজন ত্রাহি ভ্তরাহ, মামু প.ডরাকাক্ষ
বলে গড়াগাড় খায়।
     বউটির বাপের বাড়ী কান্দীর কাছে, সেই গল্প করাছিল। বলছিল
এমন মালপো মনোহরা আর রাধাপ্রসন্ন কৃষ্প্রসন্ন মেঠাই আর কোথাও
হয় না ভাই ঠাকুরঝি। প্রতিবার বাবা রাসের সময় কান্দীর রাজবাড়ী
থেকে ছাঁদাতে নিয়ে আসত ।
      চন্ডীদাসী বলেছিল-_ আমি ভাই কখনও খাইনি ।
      বউ বলেছিল,_ আম খেয়োছ, কিন্তু আরও খেতে ইচ্ছে হয়।
কিন্তু কে খাওয়াবে বলো? তোমাকে কী বলব, মনে পড়ে নোলা সপসপ
করছে।
      ঘরে সাঙার উপরে চালের নিচে এক টুকরো খোনা হাসি বেজে
উঠোছল-_হ'-হি  হি
    চণ্ডী বলেছিল -এই! কা হাসছিস তুই ছোড়দা! ভারি তো ভূত
হয়েছিল! শুধু ঝূপট ধরে টানতেই পারিস! কইখাওয়া না দেখ!
অনোহরা মালপো ফেস্টফসন্নটসম্ন না কী বলছে বউ সেই মিম্টি।
    কেষ্ট প্রসন্ন নাম করতে পেত না চণ্ডীঃ কেন্টদাসী নাম ছিল
চগ্ডীর শাশুড়ির আর প্রপন্নকুমার নাম ছিল স্বামীর! তাই বলোছল
ফেস্টপ্রসন্ন । যাক সে কথা । এখন ধা হয়োছল তাই বাল। ঘরের
ভিতরে যেন একটা দমকা বাতাস উঠল এবং ঘরের দরজা দড়াম শব্দে
ঠেলে খুলে বোরয়ে গেল; হাওয়াটা পাকাতে পাকাতে নম গাছটার
ঝটপটান জাগরে একেবারে গোড়া থেকে সেই মগডালে উঠে সেখান
থেকে মাথার উপরে আকাশ কাঁপিয়ে ( আজকালকার জেট প্লেনের মতো )

Bhuter Golpo রামাই ভুত                                                                                      Page 9

একটা গোঙানি শব্দ তুলে ঝপাং শব্দে গিয়ে পড়ল শিম গাছের
মগ্ভালে- সেখান থেকে আর একটা শব্দ।
চণ্ডীদাসণ বলেছিল-মরণ! রকম দেখ । ভূতের কি সবই বিটকেল,
যাচ্ছে তার বিটকেলোম দেখ তো!
      এই বিটকেলোম তো যেমন তেমন। এরপর যে 'বটকেলোম করলে
রামাই তা শুনেই আকেল গুড়ম হয়ে যায় । আধঘণ্টা হবে, তারপরই
চালের উপর সে যেন চার চারটে বীর হনুমানের সমান ওজন নিয়ে দমাস
শব্দে লাফ খেয়ে পড়ল। পড়ল পড়ল একেবারে আচমকা পড়ল।
চণ্ডীদাসীদের গল্প তখন সদ্য শেষ হয়েছে । চুপ করেছে। এই শব্দে
দুজনেই চমকে উঠে- বুবু শব্দে কেদে উঠোছিল।
   চালের উপর তখন মচমচ শব্দ উঠতে শুরু করেছে । চাল যেন ভেঙে
পড়বে। তারপরই তাদের চোখে পড়ল চাল থেকে ঠিক মাঁধ্য উঠোনে
এসে নামছে একটি গোদা পা, তা পা-খানা প্রায় নিম গাছের ডালের মতো
তো হবেই। তারপরই আর একটা পা, ক্রমে দুটো পায়ের উপর গোটা
একটা মূর্তি। মার্তটা একেবারে মিশকালো। তবে গায়ে তার
অসংখ্য জোনাক-পোকা লেগে রয়েছে এবং শরারের রেখায় রেখায় লেগে,
দিপাঁদপ করছে। পূর্ণিমার রাত্র-জ্যোৎস্নায় সব ফটফট করছে
তারই মধ্যে জোনাকি পোকা-খচিত ওই অপূর্ব কালো মৃর্তিটা উঠোনে
দাঁড়াল; তার মাথার উপর ঝাঁড়র গন্ধমাদন- চার চারটে ঝাড় থাকবাষ্দ
সাজানো । আর তার থেকে কী সুবাসই না উঠছে! আশ্চর্যের উপর
আশ্চষ! মাতিটা ক্রমে খাটিয়ে গঁটয়ে মানুষের মতো হল এবং চারটে
ঝাড় মাথায় বয়ে ঘরে এসে ঢুকে নামিয়ে দিলে- নে" খাঁ। এ'কেবাঁরে
টাটকা । উনোন থেকে নে'মেছে আর তু'লে এনেছি। খাঁ। বলেই
চণ্ডাঁদাসীর ঝুটি ধরে নাড়া দিয়ে দুম শব্দে একটা কিল বাঁসয়ে দিয়ে
লাফ মেরে ঘরের সাঙার উপর পা ঝুলিয়ে বসে মোনা গলায় গান ধরে
দিয়েছিল।
                 মা গোঁ আঁমায় বাঁচয়ে রাঁখো ।
এই ভূ'তজন্মে না-_ জন্মে জ'ন্মে চি*-র জন্ম বাঁচিয়ে রাখো ।
      ইন্দ্র চন্দ্র দেবতা থেকে মানুষ দেখলাম লাখো লাখো-_-
     সব ফেলে মা ভূতভাবনের বৃকেই তুমি দাঁড়িয়ে থাকো-_
         মা গো আমায় বাঁচিয়ে রাখো-এই ভূতজন্মে !

Bhuter Golpo রামাই ভুত                                                                                   Page 10

      ভূতের কত সুখ বলো মা_ দুখ নাইকো তিন সীমানায়
       অমাবস্যার ভূতের নাচন-_নাচছি দেখো মা আজকে রাস প্যার্ণমায়,
     ধিতাং ধিতাং ধিত! ধিতাং_নাচ--ছি দেখো পুর্ণিমায়।
সে গান সোঁদন সকলে শুনেছিল এ গ্রামের। এমন খোনা মিন্টি
গলা আর কেউ কখনও শোনেনি । শুনোছিল আর দেখোছল নিম গাছটার
ডালে পাতায় জোনাকি পোকাগুলো ছুটে গিয়ে নিভে যাচ্ছে। তার.
মানে রামাই জোনিক পোকাগুলো ধরে ধরে খাচ্ছিল।
চণ্ডাদাসী জিজ্ঞাসা করেছিল- ওগুলো খাঁচ্ছিস কেন? মাগ্গোঃ!
রামাই বলোছিল-জোনাকি পোকা ভূতের জিভে ভরি মষ্টি আর
জোনাকি পোকা খেলে ভূতের রঙ ফরসা হয়।
চণ্ডীদাসী বলছিল-তার চেয়ে জোনাকি পোকা দিয়ে গয়না করে-
পরিস সেই ত ভালো ।
রামাই বলেছিল -তুই গলায় দড় 'দিয়ে মর পেতনি! আমি তোকে
জোনাকি পোকার গয়না গড়িয়ে দেব ।

Bhuter Golpo রামাই ভুত                                                                                   Page 11


এই Bhuter Golpo টি সংগ্রহ করা হয়েছে ভৌতিক গল্প সঙ্কলন থেকে যার সংকলক হলেন আমিতাভ বসু। Bhuter Golpo এই বই টি প্রথম প্রকাশ পায় বাঙলা ১৪০১ বঙ্গাব্দে। এই বই টি ইন্টারনেট ডিজিটাল লাইব্রেরী থেকে সংগ্রহিত। যার OCR করেছেন মার্ক। 

অনান্য সেকসেন গুলি পড়ুন







No comments:

Post a Comment

Post Top Ad